পুষ্টি পরামর্শ

লেবুর খোসার উপকারিতা

লেবুর খোসার উপকারিতা

যেকোন খাদ্যে স্বাদ বাড়াতে লেবু খুব বেশি সাহায্য করে। পাশাপাশি লেবুর রয়েছে ঘ্রাণ। ফলে লেবু আমাদের খাদ্যের স্বাদকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া লেবুর রয়েছে আরো অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। তাই আমরা বাসায় প্রায় সবসময়ই লেবু খেয়ে থাকি।

চলমান করোনা মহামারিতে সবাইকে ভিটামিন সি জাতীয় খাদ্য বেশি করে গ্রহণের কথা বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাই আমরা লেবু, কমলালেবু খেয়ে থাকি। কিন্তু আমরা লেবু খেয়ে লেবুর খোসা ফেলে দিই।

কিছু গবেষণায় জানা গেছে যে, লেবুর চেয়ে ৫-১০ গুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে লেবুর খোসাতে। এছাড়াও লেবুর খোসায় রয়েছে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ আরো খনিজ লবণ। এছাড়া ফোলেট, বিটা ক্যারোটিন থাকে।

লেবুর খোসা স্বাস্থ্য, ত্বক ও চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে। লেবুর খোসা বেশ কিছু জটিল রোগ নিরাময় করতে সাহায্য করে। লেবুর খোসা হাড় মজবুত করে। এতে থাকা ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম হাড়ের সুরক্ষায় কাজে লাগে। হাড়ের যেকোন রোগ যেমন- আর্থ্রাইটিস, রিমেটিক প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

লেবুর খোসায় উচ্চ পরিমানে সাইট্রাস বায়ো ফ্লান্যেড থাকে যা শরীরের নানা চাপ থেকে মুক্ত রাখে। লেবুর খোসা কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। সর্বোপরি লেবুর খোসা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

লেবুর খোসা ত্বকের যত্নে বহুমূখী ভূমিকা পালন করে। এছাড়া ঘরে ব্যবহার্য বিভিন্ন জিনিসের সুরক্ষায় কাজে লাগে লেবুর খোসা।

লেবুর খোসার উপকারিতা

আসুন জেনে নিই লেবুর খোসার কার্যকরী উপকারিতা-

১। ত্বকের পোড়াদাগ দূর করতে লেবুর খোসা খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। লেবুর খোসাতে ত্বকের পোড়াভাব দূর হয়ে যায়। লেবুতে থাকা অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

২। লেবুর রসের মতো লেবুর খোসাতেও প্রচুর ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, বিটা ক্যারোটিন থাকে। প্রায় ১০০ গ্রাম লেবুর খোসাতে ১৩৪ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১৬০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ১২৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন- সি ও ১০.৬ গ্রাম ফাইবার থাকে।

৩। লেবুর খোসাতে সাইট্রিক এসিড থাকে যা কিডনির পাথর হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করে।

৪। লেবুর খোসাতে সাইটড়াস বায়ো ফ্লাভোনয়েডস থাকে যা জারণ চাপের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। লেবুর খোসা আমাদের দেহের ভিতরকে ক্ষারীয় করে তুলতে সাহায্য করে। লেবুর খোসা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। অ্যাসিডিক পরিবেশে ক্যান্সার কোষগুলো বাড়তে পারে। লেবুর খোসা ক্যান্সার কোষগুলো বেড়ে ওঠার বিরুদ্ধে লড়াই করে।

৪। ভিটামিন সি এর অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতা আমাদের অন্ত্রের ভিতরে থাকা কৃমি ও পরজীবী মেরে ফেলতে সাহায্য করে। লেবুর খোসা দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলতে সাহায্য করে।

৫। লেবুর খোসাতে ডায়েটারি ফাইবার ও ভিটামিন সি থাকে। এসব উপাদান আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এতে যেকোন ধরনের সংক্রমণ ব্যধি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৬। লেবুর খোসাতে ভিটামিন সি ও সাইট্রিক এসিড থাকে। এগুলো মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করে। জিঞ্জিভাইটিসসহ আরো অনেক রোগের হাত থেকে মুক্ত রাখে লেবুর খোসা।

৭। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে লেবুর খোসায় অনেক। লেবুর খোসা ত্বকের নিচে জমে থাকা টক্সিন বের করে দেয়। ফলে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।

৮। লেবুর খোসায় প্রচুর প্যাকটিন নামক উপাদান থাকে। এই উপাদানটি শরীরের অতিরিক্ত চর্বি ঝরিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। ফলে আমাদের ওজন কমে যায়।

৯। লেবুর খোসাতে প্রচুর সাইট্রাস বায়ো ফ্লেভোনয়েড থাকে যা আমাদের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

১০। লেবুর রস কোলেস্টেরলের মাত্রার সাম্যতা বজায় রাখে ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ফলে বিভিন্ন ধরনের হার্টের রোগ যেমন স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

কিভাবে খাবো লেবুর খোসা?

লেবু থেকে ছাড়ানো খোসা জমিয়ে রেখে শুকিয়ে নেওয়া যায়। যাতে এগুলো ভালো করে গুড়ো করে নেওয়া যায়। ওভেনে ২০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রায় লেবুর খোসাকে ভাজা করে নিয়ে সেকে গুড়ো করে নিতে হবে। লেবুর খোসা বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। খাবারের সাথে, পানীয় আকারে, অর্গানিক চায়ের সাথে মিশিয়ে, স্যুপের মাধ্যমে খাওয়া যেতে পারে।

আরো পড়ুনঃ

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে যেসব খাবার

ব্রকলির উপকারিতা

দারুচিনির বিভিন্ন গুণাগুণ ও উপকারিতা

মিষ্টি কুমড়া কেন খাবেন জেনে নিন

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!