মাশিশুশিশু খাদ্যশিশুর খাবার

শিশু কম খেলে যা করবেন

শিশু কম খেলে কি করবেন

প্রায় সব মায়েদেরই একটা কথা থাকে তার শিশু খুব কম পরিমাণে খাচ্ছে। কথাটা কতটা সত্য তা আমরা আজ জানতে পারবো। মূলত প্রথমে আমাদেরকে জানতে হবে কিভাবে আমরা বুঝতে পারবো শিশু পর্যাপ্ত খাবার খাচ্ছে কিনা। মা, বাবা একটি শিশুকে কখনোই পর্যাপ্ত খাবার থেকে বঞ্চিত করে না। তবে তাদের অজ্ঞানতা বা খাওয়ানোর সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে জানার কমতি থাকার জন্য শিশু কম খেতে পারে।

স্তন্যদানের ক্ষেত্রে যা মাথায় রাখা উচিত

যেমনঃ

১। শিশুকে কতবার খাওয়ানো লাগবে তা সম্পর্কে মা, বাবার ধারণা থাকতে হবে। এক বছরের কম বয়সী শিশুকে কমপক্ষে প্রতিদিন পাঁচ বার খাওয়াতে হবে।

২। শিশুকে খাওয়ানোর সময় শিশুকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। তাড়াহুড়া করে অল্প সময় নিয়ে শিশুকে খাওয়ানো যাবে না।

৩। শিশুর খাবারে সঠিক পুষ্টি উপাদান রাখতে হবে। গুণগত মানের পুষ্টি না থাকলে শিশুর পুষ্টির অভাব দেখা যায়। তাই শিশুর খাবারে যথেষ্ট পরিমাণে শর্করা, আমিষ, তেল ও খনিজ লবণ থাকতে হবে।

৪। বোতলে অথবা ফিডারে খাওয়ানোর জন্য বোতলের নিপল বা চুষনির সাথে মায়ের স্তনের বোটা শিশু গুলিয়ে ফেলতে পারে। ফলে শিশু খেতে চাইবে না। তখন শিশুর পুষ্টির অভাব হবে।

৫। ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে মায়ের বুকের দুধই দিতে হবে। অন্য কোন বাড়তি খাবার দেওয়া যাবে না। কারণ এসময়ে মায়ের বুকের দুধই যথেষ্ঠ।

৬। খাওয়ানোর সময় ও খাওয়ানোর আগে পরে শিশুর পিঠে আলতো করে চড় দিতে হবে। যাতে শিশু ঢেকুর তুলে বা বারপিং করে। বারপিং করলে শিশু খাওয়ানোর সময়ে যে বাতাস গিলে ফেলে তা বের হয়ে যায়। ফলে শিশু বেশ স্বস্তি পায় এবং আরেকটু বেশি করে খায়।

৭। স্তন ও স্তনের বোটায় কোন সমস্যা থাকলে শিশু দুধ থেকে বঞ্চিত হয়।

৮। দীর্ঘমেয়াদী কোন রোগ ব্যধিতে শিশু ভুগলে শিশুর পুষ্টির অভাব হয়।

৯। মা ও শিশুর যদি সুগভীর কোন সম্পর্কের ঘাটতি হয় তাহলে শিশুর পুষ্টির অভাব হতে পারে।

শিশুদের মাড়ি ও দাঁতের যত্নে যেসব খাবার খাওয়া যাবে?

এখন আমরা আলোচনা করবো যেভাবে বুঝতে পারবো শিশুটি ঠিকমতো খেতে পারছে না-

১। প্রথমদিকে শিশুটি কোষ্ঠকাঠিন্যতে ভুগবে, সারাসময় অস্থির থাকবে এবং কান্নাকাটি করতে থাকবে।

২। দীর্ঘ সময় ধরে যদি শিশুটিকে কম খাওয়ানো হয় তাহলে শিশুর ওজন বৃদ্ধি পাবে না। শিশুর সার্বিক বিকাশ হবে না।

এমতাবস্থায় আমরা যা করতে পারি-

এমতাবস্থায় শিশুর চিকিৎসা নির্ভর করে শিশুর শারীরিক অবস্থার উপর।

১। শিশুর ওজন নিয়মিত মাপতে হবে।

২। শিশুর মানসিক সমস্যা যেমনঃ নিপীড়ন, নিগ্রহ বা নির্যাতন জনিত কোন সমস্যা থাকলে তার প্রতিকার করতে হবে।

৩। শিশু যদি মারাত্নক অপুষ্টির শিকার হয় তাহলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষ করে বাড়িতে এনে যথাযথ ক্যালরি, খনিজ লবণ ও আমিষের জোগান দিতে হবে। তাহলে শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ সুষ্ঠু হবে।

৪। শিশুর মধ্যে যদি কোন সংক্রমণ হয়ে থাকে তাহলে শিশুকে সেই ব্যধি অনুযায়ী চিকিৎসা করাতে হবে।

৫। শিশুকে খাওয়ানোর ব্যাপারে মা ও বাবাকে যথাযথ ট্রেনিং দিতে হবে।

আরো পড়ুনঃ স্ট্রোক রোগীকে বাচাতে যা করণীয়

শিশুদের খাওয়ানোর নিয়ম

গর্ভাবস্থায় ডিম খাওয়া নিয়ে কিছু কথা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.