শিশুশিশু খাদ্যশিশুর খাবার

শিশুর খাবারে অনীহা দূর করার উপায়

শিশুর খাবারে অনীহা দূর করার উপায়

বর্তমানে প্রায় প্রতিটি বাচ্চাই ঠিকমতো খাবার খেতে চায়না। এটি প্রতিটি মায়েরই চিন্তার কারণ। শিশু পেট ভরে খেলে, ভালো মতো ঘুমালে ও খেলাধুলা করলে মায়েদের শান্তি লাগে। শিশুকে জন্মের পর থেকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ পান করানো উচিত। ছয় মাস পর থেকে বাড়তি খাবার শিশুকে দেওয়া যেতে পারে।

প্রতিটি শিশুর জন্যই জন্মের ৬ মাস থেকে ২৩ মাস বয়স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে প্রতিটি বাবা মায়েরই উচিত পর্যাপ্ত খেয়াল রাখা শিশুর খাদ্যের প্রতি। বাচ্চা নেওয়ার পূর্বে জানতে হবে কিছু কথা

কিন্তু বাবা মায়ের শিশুর খাদ্যের প্রতি খেয়াল থাকলেও শিশুরা যেন একদমই খেতে চায় না। শিশুদের খাবারের প্রতি অনীহা কাজ করে। এই অনীহার পেছনে রয়েছে নানা কারণ। এই সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।

শিশু বয়সে শিশুদেরকে পেট ভরে খাওয়ানোই যেন মা বাবার চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এই অভ্যাস মোটেও ভালো নয়। এই অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসতে হবে। শিশুকে ঘন ঘন খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। খাবারের মাঝে মাঝে বিরতি দেওয়া উচিত। শিশুর পেট ভরা থাকলে শিশু কোনমতেই খেতে চাইবে না। তাই শিশুকে জোর করে খাবার খাওয়ানো যাবে না। শিশুকে যেভাবে ঘরের কাজ শেখাতে হবে

শিশুকে মাঝে মাঝে মায়ের দুধ খাওয়ানোর পরে আবার বাড়তি খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়। এটি করা একদমই উচিত না। শিশুর মায়ের দুধ পান করার পরে খানিক সময় পেট ভরা থাকে। এই সময়ে বাড়তি খাবার খেতে চাইবে না শিশু। তাই মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি শিশুকে বাড়তি খাবার খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

শিশু যখন অসুস্থ থাকে তখন সে ঠিকমতো খেতে চায় না। জ্বর, ঠান্ডা ও শিশুর পেট খারাপ থাকলে শিশুর খাবারের প্রতি অনীহা চলে আসে। এই সময়ে শিশু একদম কম খেতে চায়। যা খুবই স্বাভাবিক। এতে চিন্তা করার কোন কারণ নেই। বরং শিশু বেশি অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে নেওয়া উচিত।

অনেকে আবার শিশু ঘুমিয়ে থাকলে তাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করে। এই কাজটি করা মোটেও উচিত নয়। ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুকে খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। শিশু কম খেলে যা করবেন

শিশুরা যাতে খুব তাড়াতাড়ি খাবার খায় তাই মায়েরা শিশুদের হাতে মোবাইল দিয়ে রাখে বা টিভি ছেড়ে রাখে। কিন্তু এই কাজটি শিশুর জন্য একদমই ক্ষতিকারক। শিশুর খাবার খাওয়ার সময় শিশুকে পুরোপুরি সময় দিতে হবে। শিশুর সাথে গল্প গুজব করতে হবে। শিশুকে খাবার খাওয়ানোর সময় বিভিন্ন ধরনের খাদ্যের নাম বলা যেতে পারে। তাহলে শিশু খাবার খাওয়ার সাথে সাথে খাবারের নাম ও জানতে পারবে।

শিশুর প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় একই ধরনের খাদ্য না রেখে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য রাখা যেতে পারে। এক এক দিন একেক ধরনের পুষ্টিকর খাদ্য শিশুর খাদ্য তালিকায় যোগ করা যেতে পারে। একেক দিনে একেক ধরনের খাদ্য খাদ্যতালিকায় রাখলে শিশুর খাবারের প্রতি অনীহা চলে যায়। ফলে শিশু সব ধরনের খাদ্য খেতে চাইবে।

আপনার ছোট্ট সোনামণির ঘরটি কেমন হবে?

যখন পরিবারের বাকিরা খাবার খেতে বসেন তখন শিশুকেও খাবার টেবিলে বসিয়ে রাখা যেতে পারে। শিশুর জন্যও একটি আলাদা পাত্র রাখতে হবে। তাহলে শিশু সবার দেখাদেখি দ্রুত খাওয়া শিখে যাবে। তখন শিশুর খাবারের প্রতি আগ্রহ জন্ম নিবে।

শিশুর সাথে বাবা মায়ের বন্ধুত্ব পূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। বাড়ন্ত শিশুকে বাবা মায়ের সময় দিতে হবে। এই সময়টাতে বাবা মায়ের উচিত শিশুর প্রতি সচেতন থাকা ও শিশুর ব্যবহারের দিকে খেয়াল রাখা।

আরো পড়ুনঃ শিশুদের মাড়ি ও দাঁতের যত্নে যেসব খাবার খাওয়া যাবে?

শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হলে কি করবেন?

শিশুদের সংক্রমণ রোধ করতে যেসব খাবার কাজ করে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.