পুষ্টি পরামর্শস্বাস্থ্য টিপস

শীতের সবজির গুণাগুণ

শীতে নানা ধরণের সবজি পাওয়া যায়। এসব শাক- সবজি পুষ্টিগুণে ভরপুর। আমাদের শরীরের বৃদ্ধিসাধনের জন্য সব ধরনের পুষ্টি উপাদান বা খাদ্য উপাদান যেমন- কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, মিনারেলস, ভিটামিন ও পানির প্রয়োজন রয়েছে। শরীর সুস্থ ও সবল রাখার জন্য সব ধরনের পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় শীতের শাক- সবজিতে। তাই শরীরকে কর্মক্ষম রাখার জন্য নিয়মিত শাক-সবজি খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

শীতে গ্রামে গঞ্জে, মাঠে ঘাটে নানা ধরনের শাক সবজি পাওয়া যায়। শহরে বসেও আমরা সেসব শাক-সবজি পেয়ে থাকি তবে গ্রামের মতো টাটকা না।

শীতে বিভিন্ন ধরনের সবজির মাঝে রয়েছে ফুলকপি, বাধা কপি, শিম, গাজর, টমেটো, মূলা, ব্রকলি, ধনিয়া পাতা, পালং শাক, মটরশুটি ইত্যাদি। এসব শাক-সবজি প্রতিটিরই আলাদা আলাদা পুষ্টিগুণ রয়েছে। এসব পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমাদের ধারণা থাকলে আমরা নিজের চাহিদা মতো শাক- সবজি গ্রহণ করতে পারবো।

১। গাজর-

গাজর সুস্বাদু একটি সবজি। এটি খুব পুষ্টিকর। এতে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যাআশ রয়েছে। এটি প্রায় সারা বছর পাওয়া গেলেও এটি একটী শীতকালীন সবজি। তরকারি করেও গাজর খাওয়া যায়। আবার কাঁচা ও খাওয়া যায়। গাজরের হালুয়া খুব সুস্বাদু একটি খাবার।

  • গাজরে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন তাই এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। গাজরের সাথে কিছুটা মধু মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের মৃত কোষ দূর হয় ও ত্বক উজ্জ্বল হয়।
  • গাজরে যেহেতু বিটা ক্যারোটিন রয়েছে তাই এটি দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
  • গাজর ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
  • গাজর কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
  • আরো পড়ুনঃ গাজরের হালুয়া

২। ফুলকপি-

ফুলকপি শীতকালে ভীষণ চেনা একটি সবজি। এটি খেতে খুবই সুস্বাদু হয়ে থাকে। ফুলকপিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি এবং সি পাওয়া যায়। তাছাড়া এতে আয়রন, সালফার , পটাশিয়াম ও ফসফরাস পাওয়া যায়।

  • ফুলকপিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • শীতকালীন বিভিন্ন রোগ যেমন- জ্বর, সর্দি, কাশি প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণে ফুলকপি খুব ভালো কাজ করে।
  • এটি পাকস্থলির ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • এতে কোন চর্বির মাত্রা নেই। তাই এটি রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
  • গর্ভবতী মা, বাড়ন্ত শিশু ও যারা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করে তাদের জন্য ফুলকপি খুব ভালো কাজ করে।

। বাধাকপি-

বাধাকপিতে প্রচুর পরিমানে মিনারেল, এমাইনো এসিড, শর্করা, ভিটামিন সি ও পানি পাওয়া যায়।

  • বাধাকপি আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • বাধাকপিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায় যা আমাদের শরীরের হাড়কে শক্ত ও মজবুত করতে সাহায্য করে।
  • বাধাকপি ওজন কমাতেও সাহায্য করে
  • পাকস্থলীর আলসার প্রতিরোধ করতে বাধাকপি সাহায্য করে।
  • বাধাকপিতে ভিটামিন -ই পাওয়া যায় যা ত্বকের যেকোন ধরনের সমস্যা সমাধান করে।

৪। ব্রকলি-

ব্রকলি বা সবুজ রঙয়ের ফুলকপি একটি কপিজাতীয় সবজি। শীতকালীন এই সবজি এখন প্রায় সারাদেশেই চাষ করা হয়। এই সবজির জনপ্রিয়তা এখন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্রকলিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

  • ব্রকলি একটি আয়রন সমৃদ্ধ খাদ্য যা অ্যানিমিয়া রোগ দূর করে।
  • ব্রকলিতে ভিটামিন কে পাওয়া যায় যা হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • ব্রকলিতে ক্যালসিয়াম থাকায় এটি হাড়ের গঠনে সহায়তা করে।
  • ব্রকলি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
  • ব্রকলি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

৫। শিম-

শিম খুবই সুস্বাদু একটি খাদ্য। এটি আমিষের খুব ভালো উৎস। এটি প্রধানত সবজি হিসাবে খাওয়া হয়। আবার শিমের বীজ শুকিয়ে ডাল হিসাবেও খাওয়া যায়।

  • শিম রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
  • শিমের আশ জাতীয় অংশ খাবার পরিপাকে সাহায্য করে।
  • শিম কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৬। টমেটো-

টমেটো শীতকালের একটি জনপ্রিয় সবজি। টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি পাওয়া যায়। এতে ভিটামিন সি ও পাওয়া যায়। এছাড়াও এতে ভিটামিন এ, ফাইবার, মিনারেল ও প্রচুর পরিমাণে পানি পাওয়া যায়।

  • টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে লাইকোপিন পাওয়া যায় যা মাংসপেশীকে মজবুত করে। দেহের ক্ষয় রোধ করে ও দাঁতের গোড়াকে শক্ত করে।
  • টমেটো ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন রোগ দূর করে।
  • টমেটো ত্বক ও চুলের রুক্ষতা দূর করতে সাহায্য করে।
  • টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিওক্সিডেন্ট পাওয়া যায় যা ক্ষতিকারক আল্ট্রাভায়োলেট রশ্নির বিরুদ্ধে দারুণভাবে কাজ করে।
  • টমেটো চর্মরোগ দূর করে।
  • টমেটো স্কার্ভি রোগ দূর করে।

৭। মূলা-

মুলা ও মূলা শাক উভয়ই খাওয়া যায়। এতে ভিটামিন-এ, বি, সি , ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পানি পাওয়া যায়।

  • মূলা রুচি বর্ধন করতে সাহায্য করে।
  • মূলাতে ফাইবার পাওয়া যায় যা কোষ্ঠ কাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • মূলাতে থাকা ভিটামিন সি মামাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • মূলাতে থাকা ফাইবার রক্তের শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

৮। মটরশুটি-

শীতের সবজিতে মটরশুটির মহাসমারোহ দেখা যায়। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়। এতে আবার প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও পাওয়া যায়।

  • মটরশুটি ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে
  • মটরশুটি হৃদরোগ রোগ প্রতিরোধ করে।
  • মটরশুটি শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৯। পালং শাক-

পালং শাক প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি গুণাগুণ সমৃদ্ধ। এতে আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ফলিক এসিড বেশি পাওয়া যায়।

  • এটি হৃদরোগ প্রতিরোধ করে।
  • এটি আর্থ্রাইটিস, অস্টিওপোরেসিস প্রতিরোধ করে।
  • পালং শাক ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

১০। ধনিয়াপাতা-

ধনিয়া পাতাতে ভিটামিন সি ও ফলিক এসিড পাওয়া যায়।

  • ধনিয়াপাতা রক্ত তৈরীতে সাহায্য করে।
  • চুলের ক্ষয়রোধ করে।
  • ত্বকের পুষ্টি জোগায় ও মুখের নরম অংশগুলো রক্ষা করে।
  • সজিনা পাতার যত গুণ

আরো পড়ুনঃ

মজাদার খাবার মটর পোলাও! আসুন জেনে নেই রন্ধন প্রণালী

খেজুরে গুড়ের উপকারিতা

মস্তিষ্কের জন্য সেরা খাবার

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.