আউটডোর প্ল্যান্টইনডোর প্ল্যান্টপ্ল্যান্টিং

শীতে গাছের যত্ন

শীতে গাছের যত্ন

গাছের তিনটি মৌলিক উপাদান হছে মাটি, পানি ও সূর্যালোক। ফুল, ফল ও সবজি পাওয়ার একটি উপযুক্ত মৌসুম হচ্ছে শীতকাল। শীতে মাটির পিএইচ লেভেল বা মাটির গুণাগুণ ও ভারসাম্য শীতের ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে মাটির আর্দ্রতা বেশি সময় বজায় থাকে। শীতের সময় গাছের পানির পরিমাণ খুব কম লাগে।

শীতকালে গাছের যত্ন অন্য যেকোন সময় থেকে একটু বেশিই নিতে হয়। শীতকালে তাপমাত্রা কমে যাওয়া ও অতিরিক্ত কুয়াশা পড়ার ফলে গাছের মাটিতে দ্রুত রোগ ছড়িয়ে পড়ে। মাটিতে বিভিন্ন প্রকার পোকা আক্রমণ করে। শীতের সময়ে গাছের বৃদ্ধি বেশি হয়। ফুল, ফল ও সবজি অল্প কিছুদিনের মাঝেই পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিন শীতের সময়ে পর্যবেক্ষণ করতে হয়।

শীতে যা করা যাবে ও যা করা যাবে না-

১। শীতে ফল ও সবজির জন্য একটু বেশি পরিমাণে সার প্রয়োগ করতে হবে। শীতে গাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য বেশি খাদ্যের প্রয়োজন পড়ে। ফুল গাছে কিছুটা কম সার প্রয়োগ করলেও হবে।

২। শীতে গাছ লাগানোর ১৫-২০ দিন পর গাছ ৫-৬ ইঞ্চি লম্বা হয়ে যায়। তখন সার প্রয়োগ করা একান্ত প্রয়োজন। এছাড়া গাছে ফুল ও ফল ধরলে সার প্রয়োগ করতে হবে।

৩। শীতে গাছের জন্য জৈব সার বা কেঁচো সার খুব ভালো। এতে মাটি খুব ভালো থাকে। এসব সারে রাসায়নিক উপাদান না থাকায় এগুলো গাছের জন্য খুবই ভালো।

৪। শীতে শীতকালীন গাছ ছাড়া অন্যান্য গাছ খুব কম বাড়ে। তাই এ সময়ে গাছ ছাটায়ের কোন প্রয়োজন নেই। শুরুতে গাছের আগাছা পরিষ্কার করে নিতে হবে।

৫। শীতে মাটির ছত্রাকজনিত রোগ খুব বেশি পরিমাণে বাড়ে। তাই শুরুতেই ছত্রাকরোধী কীটনাশক গাছের গোড়ায় ছিটিয়ে দিতে হবে। গাছের পাতাতেও কীটনাশক স্প্রে করা যেতে পারে। মাসে দুইবার কীটনাশক ব্যবহার করা উচিত।

৬। সকালে ও বিকালে পানি দেওয়া যেতে পারে। একবেলা দিলে বিকালবেলা পানি দিতে হবে। সবসময় খেয়াল রাখতে হবে যেন গাছের গোঁড়ায় পানি না জনে যায়।

৭। সবজি ও ফল ৯০% পরিপক্ক হলে তুলে নিতে হবে।

৮। কোন গাছে পোকা আক্রমণ করলে সাথে সাথেই তুলে নিতে হবে। শীতে এই পোকা অন্য গাছেকে খুব দ্রুতই ক্ষতি করে।

৯। গাছের মাটি থেকে আর্দ্রতা যেন বেরিয়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাই শুকনো পাতা বা খড় দিয়ে গাছের গোড়া ঢেকে দিতে হবে। তাহলে গাছের গোড়ায় কুয়াশা লাগবে না ও গাছের মাটির আর্দ্রতা ও ঠিক থাকবে।

১০। শীতে সূর্যালোক কম থাকায় গাছের সালোকসংশ্লেষণ ভালো হওয়ার জন্য রাতে একটা গরম লাইট ব্যবহার করা যেতে পারে।

১১। শীতে গাছের কোন অংশে পচন ধরলে সম্পূর্ণ গাছটি তুলে ফেলতে হবে বা কেটে দিতে হবে।

১২। শীতে ছত্রাক ও ভাইরাসের আক্রমণ থেকে গাছকে বাচাতেত সাইপারমেথরিন, ম্যানকোজেব ও মালাথিওন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করতে হবে।

শীতে বাগান করার প্রতি অনেকেই আগ্রহী হয়ে থাকে। শীতে বাগানে ফুল, ফল ও সবজি চাষ করা যেতে পারে। তাই বাগান করার জন্য গাছের যত্ন নিতে হবে।

আরো পড়ুনঃ

একটি সবজি যা টিকার বিকল্প হিসাবে কাজ করবে

গাছের জন্য ঘরোয়া উপায়ে সার তৈরী

বর্ষাকালে পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে বাচতে করণীয়।

কি দেখে গাছের চারা কিনবেন ?

গাছের পোকা ও পিপড়া দূর করার উপায়

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.