চুলের যত্নত্বকের যত্নরূপচর্চালাইফস্টাইল

সুন্দর ত্বক ও চুল পেতে কি করবেন?

ত্বক ও চুলের যত্নে এসেনশিয়াল অয়েল

মন ভালো থাকলে নাকি ত্বক ও ভালো থাকে। কিন্তু বর্তমান এই ব্যস্ত সময়ে মন ভালো রাখাটা খুব বেশি কষ্টের। তাই মনে খারাপের সাথে সাথে ত্বক ও চুল খারাপ হয়ে যায়। শুধু সৌন্দর্যচর্চা করলেই নিজের রুপ ফুটে উঠে না পাশাপাশি মনের শান্তি ও চাই। মনের সাথে ত্বকের একটা সম্পর্ক রয়েছে।

নিজে খুশি থাকলে তার ত্বক ও চুল ও ভালো থাকবে। আবার ত্বক ও চুল ভালো থাকলে নিজেও খুশি থাকা যায়। তাই নিজের খুশি ও ভালো ত্বক ও চুল পেতে হলে সঠিক পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ উপকরণ ব্যবহার করতে হয়। তাই কিছু উপকরণ সমৃদ্ধ জিনিস ব্যবহার করতে হবে যেটা আপনার ত্বক ও চুল ভালো রাখে।

অ্যারোমাথেরাপি অয়েল

মনের অবসাদ দূর করে মনকে শান্ত ও সুন্দর রাখতে অ্যারোমাথেরাপি খুব ভালো কাজ করে। মূলত সব তেলই চুল ও ত্বকের জন্য খুবই উপকারী হয়ে থাকে। কিছু কিছু তেল আবার ত্বক ও চুলের জন্য খুব বেশি ভালো কাজ করে। যেমন- লেমন, ভ্যানিলা, রোজমেরি, ল্যাভেন্ডার ইত্যাদি। নিজের চুল ও ত্বকের জন্য একাধিক তেল মিশিয়ে বিভিন্ন মাস্ক, লোশন বা বডি ক্রিম তৈরী করা যায়। তবে কিছু তেল আবার সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে আসলে ত্বক রুক্ষ করে দেয়।

যাদের ঘুমের সমস্যা তারা ঘুমানোর আগে ল্যাভেন্ডার তেল ব্যবহার করতে পারেন। রাহলে আপনার ত্বক খুব ঠান্ডা থাকবে।

চুল লম্বা করতে চাইলে রোজমেরি তেল খুব ভালো কাজ করে। চুলের যেকোন সমস্যা দূর করে রোজমেরি অয়েল। এই তেল সরাসরি মাথায় ব্যবহার না করাই ভালো। অন্য যেকোন ঠান্ডা তেল যেমন- নারকেল, অলিভ, ক্যাস্টর ইত্যাদি তেল মিশিয়ে মাথায় দেওয়া উচিত। প্রায় এসেনশিয়াল অয়েল তাপে তার কার্যকারিতা হারায়।

লেমন অয়েলে রয়েছে ব্লিচিং গুণাবলি। তাই এই তেল ত্বকের ক্লান্তি কমায়, ত্বকের ট্যানিং দূর করে ও ত্বককে উজ্জ্বল রাখে।

চন্দন ও সিনামন ব্রণ ও তেলতেলে ত্বক ও পোরসের জন্য খুব ভালো কাজ করে। টি ট্রি অয়েল ব্রণের সমস্যা দূর করে। ক্যামোমাইল অয়েল রোদে পড়া ত্বক থেকে মুক্তি দেয়। চুলের জন্যও এই তেল খুব ভালো কাজ করে। চুলের তৈলাক্ত ভাব দূর করে পাশাপাশি স্ক্যাল্পের রুক্ষতা দূর করতে সাহায্য করে।

চকলেট

চকলেট খেতে প্রায় সবাই পছন্দ করে। চকলেটের অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে ও চকেলেটে রয়েছে অনেক সুগন্ধ। এই চকলেট আবার আমাদের ত্বক কোমল রাখে ও ত্বক উজ্জ্বল বানাতে সাহায্য করে।

চকলেটে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফ্যাটি এসিড ও অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট। চকলেট চুলের আর্দ্রতা জোগায় ও ত্বকের কোলাজেন বাড়াতে সাহায্য করে। ডার্ক চকলেট খুব বেশি উপকারী। ডার্ক চকলেট দিয়ে মাস্ক, লিপবাম, শাওয়ার জেল সবই তৈরী করা যায়।

গুড়া বা গলানো ডার্ক চকলেটের সাথে অলিভ অয়েল ও একটি ডিমের কুসুম মিশিয়ে মাস্ক তৈরী করা যায় খুব সহজেই। এই মাস্ক ত্বক ও চুলের জন্য খুবই উপকারী। এই মাস্ক মুখে ও চুলে মেখে ১৫ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে খুব ভালো উপকার পাওয়া যায়।

চকলেট ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। গোসলের সময় শাওয়ার জেল বা বডি ওয়াশের সাথে কোকো পাউডার মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বক সজীব ও আর্দ্র হয়।

আবার ঠোট ও হাত, পায়ের তালু শুষ্ক হলে লিপবাম ও ময়েশ্চারাইজার হিসাবে চকলেট ব্যবহার করা যেতে পারে। কিছুটা পেট্রোলিয়াম জেলি ও অল্প কিছুটা কোকো পাউডার মিশিয়ে তাপে রেখে দিতে হবে। তারপর ঠান্ডা করে নিলেই তৈরী হয়ে যাবে লিপবাম।

আমন্ড

অবসর সময়ে আমরা বাদাম খেয়ে থাকি। এই বাদাম আবার রূপচর্চার জন্য ও খুব ভালো কাজ করে। ঘরোয়া স্ক্রাব হিসাবে এই বাদাম ব্যবহার করা হয়। এই বাদাম ঠোট ও চুলের কালচে ভাব দূর করে পাশাপাশি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতেও সাহায্য করে।

আমন্ড অয়েল চুল পড়া কমায় ও চুলের খুশকি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ঠোটের যত্নেও আমন্ড অয়েল খুব ভালো কাজ করে। কয়েকটি আমন্ড, ১ চা চামচ দুধের সর ও কিছু গোলাপের পাপড়ি বেটে একটি প্যাক বানিয়ে প্রতিদিন ঘুমানোর আগে ঠোটে দিলে ঠোট অনেক নরম ও গোলাপি হয়।

আমন্ড আবার স্ক্রাব হিসাবেও ব্যবহার করা যায়। কিছু আমন্ড ভিজিয়ে ব্লেন্ড করে বা বেটে নিতে হবে। আমন্ড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। আবার আমন্ড বেটে স্ক্রাব হিসাবেও ব্যবহার করতে পারবো। আমন্ড ত্বকের মৃত কোষ দূর করে সাথে ত্বকের উজ্জ্বলতা বারায়।

আমন্ড পুড়িয়ে নারকেল তেলে ভিজিয়ে রাখতে হবে কয়েক দিন। এই তেল চুল কালো করে ও পাকা চুল কমায়।

আরো পড়ুনঃ

ঘন ও লম্বা চুল পেতে রসুনের ব্যবহার

চুল ও ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষায় নারকেলের পানি

উকুন প্রতিরোধের উপায়

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!