খাদ্য ও স্বাস্থ্যকথাস্বাস্থ্য টিপস

সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য যে কাজগুলো করা দরকার

সুস্থভাবে বেঁচে থাকা

জীবনের সুস্থভাবে বেঁচে থাকা অনেক বড় চ্যলেঞ্জ। সুস্থভাবে বেঁচে থাকাতে  সবাই চায় । সারা জীবন সুস্থভাবে বেঁচে থাকার আশা করে সবাই। তবে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য কিছু কাজ করা দরকার।  কিন্তু সুস্থভাবে বেঁচে থাকাতে সে কাজগুলো সবাই করে না। 

সুস্থভাবে বাঁচতে শজ কাজগুলো সবাই করানা বলে তাদের অনেকেরই  সুস্থ থাকা সম্ভব হয়ে ওঠেনা। ফলে বেশির ভাগ মানুষ ছোট-বড় নানান রকম রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পরে।

তবে সুস্থ থাকার চেষ্টা খুব বেশী কঠিন নয়,  এর জন্য প্রথমেই প্রয়োজন নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং সুস্থ থাকার প্রবল ইচ্ছে।

আমাদের দেশের অলস মানুষেরা নিজেদের সুস্থতা আশা করে। কিন্তু নিজেদের সুস্থ রাখার জন্য নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি মোটেও যত্নশীল নয়।

আমাদের দেশের মানুষ অলসতা এবং অসতর্কতার জন্যে নিজেদের শরীর স্বাস্থ্য খারাপ করে ফেলে। তবে তারা তবু সুস্থ থাকারও আশা করে। এজন্য বলতেই হবে যে সুস্থ থাকার জন্য অবশ্যই অবশ্যই স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হতে হবে।

অনেকেই বলে থাকে যে, আমাদের দেশের অনেকেই তো তাদের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল নয় মোটেও এবং সচেতনও নয় তবুও তো তারা সুস্থ রয়েছে।

এর উত্তর হলো তারা কত দিন  সুস্থ থাকে সেটা আগে লক্ষ্য করুন। কারণ আমাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যাবস্থা যে কোন ধরনের রোগ এবং অসুস্থতাকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। আর বিভিন্ন সংক্রমণ এবং অসুখ বিসুখ এর আক্রমণ হতে আমদের শরীরকে রক্ষা করতে করতে এক সময় স্বাস্থ্য দুর্বল হয়ে যায়।

তখন দেখা যায় ছোটখাটো কোন রোগ বা অসুস্থতায়ও  প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আমাদের দেহে তেমন থাকে না। এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় আমাদের শরীর খারাপ হয়ে যায়।  এবং এক সময়য় বেশ দুর্বল হয়ে পরে।

এজন্যই সর্বদা স্বাস্থ্যের প্রতি অত্যন্ত্য যত্নশীল হতে হবে।  যাতে আমরা সারা জীবন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারি।

একবার হসপিটাল থেকে ঘুরে আসুন দেখবেন সুস্থ থাকা টা কতটা গুরুত্বপূর্ণ । হসপিটালের বিছানায় শুয়ে শুয়ে কষ্ট ভোগ করছে  এরকম অনেক অসুস্থ ব্যক্তিদের দেখবেন। যাদের বেশিরভাগই নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল ছিল না।

সুস্থ থাকা যে কতটা প্রয়োজনীয় সেটা একজন অসুস্থ ব্যক্তিই ভালোভাবে বুঝতে বুঝতে পারে। তবে  সুস্থ থাকা বলতে কিন্তু শুধু শারীরিক ভাবেই সুস্থ থাকা বোঝায় না।  সুস্থ থাকা বলতে শারীরিক ও মানসিক ও ভাবে সুস্থ  থাকা বোঝাঝা

কারণ আমাদের শরীরের মধ্যেই আমাদের মন বাস করে। আমাদের মন  যদি সুস্থ না থাকে তবে আমাদের শরীরও সুস্থ থাকবে না।

স্বাস্থ্যের জন্য মানসিক অসুস্থতা এবং অশান্তি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক। তবে সুস্থ থাকার জন্য আপনাকে খুব বেশি কিছু করতে হবে না। শুধু স্বাস্থ্যের প্রতি আপনাকে যত্নবান হতে হবে । এবং  অল্প কিছু ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে  তাহলে আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন।

স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গুলো গরে তোলা কিন্তু কোন কঠিন কাজ নয়, আপনি নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গুলো অনুসরন  করুন। আস্তে আস্তে এটি আপনার কাছে তেমন কিছুই মনে হবে না।

পরিষ্কার পরিছন্নতা
প্রথমত আপনাকে  সুস্থ ও সাস্থবান থাকতে হলে অবশ্যই পরিষ্কার পরিছন্নতার প্রতি  যত্নশীল হতে হবে। কারণ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে  বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ এবং রোগ জীবাণুর আক্রমন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

খাবার খাবার আগে এবং পরে হাত এর কব্জি পর্যন্ত পরিষ্কার করে নেয়া, হ্যান্ডওয়াশ বা সাবান দিয়ে ভালো করে হাত এর আঙ্গুলের ফাঁকেও ধুয়ে নিতে হবে। যদিও এই বিষয় গুলো সবাই কমবেশি জানি  তবুও অনেকেই হাত ধোয়ার যথাযথ নিয়ম মানে না ।

ঘুমানোর নিয়ম

রাতে খুব তাড়াতাড়ি ঘুমোতে যাওয়া এবং সকালে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করতে হবে।
ঘুমানোর সময় স্মার্টফোন ৩ মিটার দূরে রাখতে হবে।

রাতে বিছানায় শুয়ে স্মার্টফোন ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকারক। এটা ভবিষ্যতে খুব বিপদজনক হতে পারে।

শাকসবজি এবং কাঁচাবাজার 

বাজার থেকে কাঁচা শাকসবজি এবং ফলমূল কিনে আনার পর তা আধা ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখা এবং ভাল করে ধৌত করা।

বাজারের শাকসবজিতে এবং বিভিন্ন প্রকার রোগ জীবাণু থাকতে পারে।  তাই আধা ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে দূর হয়ে যায়।

শাকসবজি রান্নার আগে কেটে আমরা ধৌত করে নেই। এটা একদম ঠিক নয়। কারণ এতে শাকসবজি পুষ্টি উপাদান পানির সাথে ধুয়ে চলে যায়। এজন্য অবশ্যই এরপর থেকে শাক সবজি কাটা ও ধৌত করার ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন।

বাহিরের খাবার

সুস্থ এবং রোগ মুক্ত থাকার জন্য যথাসম্ভব বাহিরের অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার করতে হবে। বাহিরের খাবার গুলো অস্বাস্থ্যকর ভাবে বানানো হয় যা আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক। বাহিরের ভাজা পোরা অস্বাস্থ্যকর খেলে ধীরে ধীরে আমরা কঠিন কোন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়বো।

বাহিরের বেশির ভাগ ফাস্টফুড খাবারে অতিরিক্ত অস্বাস্থ্যকর উপাদান বিদ্যমান। যা আমাদের শরীরে মেদ চর্বির সৃষ্টি করে এবং নানা রকম অসুস্থতা সৃষ্টি করে। তাই এখনই বাহিরের সকল প্রকার আজেবাজে খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটা পরিত্যাগ করুন।

সুষম খাবার

আসলে খাবার শুধু খেলেই হবে না খাবার যেন স্বাস্থ্যসম্মত হয় তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।  সুষম খাবার আমাদের শরীর সুস্থ এবং রোগ মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বেশি করে সুষম খাবার অবশ্যই রাখুন।

ভিটামিনযুক্ত সুষম খাবার হিসেবে শাকসবজি বেশি খাওয়ার চেষ্টা করুন। কারণ শাক সবজিতে রয়েছে অনেক পুষ্টিকর উপাদান ও ভিটামিন। যা আমাদের শরীর সুস্থ থাকতে এবং রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

এছাড়াও আপনি বিভিন্ন প্রকার ফল খেতে পারেন।

যেমন: কলা, পেয়ারা, আপেল,আমলকি

এছাড়াও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার প্রচুর পরিমাণে খাবেন কারণ, ভিটামিন সি আমাদের শরিরকে সুস্থ রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

আপনার খাদ্য তালিকায় ক্যালসিয়াম জাতীয় কিছু খাদ্য হিসেবে ডিম ও দুধ রাখুন । কারণ ক্যালসিয়াম আমাদের হাড়ের ও অস্তি মজ্জার উন্নতি ঘটায় এবং হাড়ের বিভিন্ন প্রকার রোগ প্রতিরোধ করে।

কিছু বিষয় খেয়াল রাখুন

অতিরিক্ত লবণকে না বলুন, লবন নানা রকমের সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই সব থেকে ভালো হয় খাবারের সাথে কাঁচা লবণ না খাওয়া।

এছাড়াও অতিরিক্ত চিনি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকারক। চিনির পাশাপাশি মিষ্টিজাতীয় খাবার কম খাওয়া উচিত। 

অবশ্যই সময়মত খাবার  খাবেন। সকালে, দুপুরে এবং রাতে সময়মত খাবার খাবেন, না হলে নানা প্রকার সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

অতিরিক্ত চা বা কফি পান করার অভ্যাস থাকলে সেটা অবশ্যই ত্যাগ করুন। আর সবচেয়ে ভালো  যদি আপনি দিনে একবার গ্রিন টি পান করেন।

ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম

অনেকেই ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম এর ব্যপারে একদমই অলস। তারা শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যায়াম করতে চায় না। আসলে সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে এবং নিয়মিত কিছু সময় ধরে শরীরচর্চা করতে হবে।

অন্যথায় সুস্থ থাকা এক প্রকার অসম্ভব বলা যায়। তাই শারীরিক পরিশ্রম করুন এবং দিনে অন্তত 30 মিনিট শরীর চর্চা করুন।

আপনার জীবন কতটা সুন্দর হয় এবং আপনি কতটা সুস্থ এবং রোগ মুক্ত সুস্থ থাকতে পারেন সেটা আপনি নিয়মিত কয়েক দিন ব্যায়াম করার পরেই বুঝতে পারবেন।

শরীরচর্চা করার পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম করার অবশ্যই চেষ্টা করবেন । এতে আপনার শরীর অনেক ভালো থাকবে।

অনেকেই মনে করেন যে ব্যায়াম করতে হলেই জিমে যেতে হয়, আসলে এটা সঠিক নয়। আসলে বাসায় বসেই ব্যায়াম করে সুস্থ থাকা যায়। সুস্থ থাকার জন্য কিন্তু খুব কঠিন কোন ব্যায়ামের দরকার নেই। 

এছাড়াও প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি করা, বাসায় যাবার জন্যে সিঁড়ি ব্যবহার করা এবং বিভিন্ন ধরনের বাসার টুকটাক কাজ করা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো।  কারণ এতে আপনার শারীরিক পরিশ্রম হয়।

যোগ ব্যায়াম

যোগ ব্যায়াম কিভাবে সুস্থ রাখে এটা অনেকেই বলে থাকে। তবে সত্যি কথা বলতে সুস্থ থাকার জন্য যোগ ব্যায়াম এর চেয়ে ভাল কোন  বিষয় হতেই পারে না।

 আপনি চাইলেই কোন রকম পরিশ্রম ছাড়াই খুব সহজেই যোগব্যায়াম করে অনেক অনেক বেশী সুস্থ ও সবল থাকতে পারেন।

যোগব্যায়াম করার জন্য ব্যায়ামের সরঞ্জাম এর প্রয়োজন হয় না। যোগ ব্যায়াম করার এটা একটি সুবিধা এবং এতে পরিশ্রম খুব একটা নেই বললেই চলে।

তাছাড়াও খুব অল্প জায়গায় যোগ ব্যায়াম করা যায়।  একজন মানুষ সোজা হয়ে শুতে পারে এরকম জায়গায়ই যোগ ব্যায়াম করার জন্য যথেষ্ট।

 যোগব্যায়ামে অগণিত রোগের উপকারিতা পাওয়া যায় এবং সুস্থ থাকার অন্যতম ভাল মাধ্যম এটি।

যোগব্যায়ামের কয়েকটি আসন অনুশীলন করেই  আপনি দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা পাবেন। 

সুস্থতার জন্য হাঁটা

একটি প্রশ্ন হচ্ছে  সুস্থ থাকার জন্যে কতক্ষণ হাঁটা উচিত? তবে সুস্থ থাকার জন্য মোটামুটি আধাঘণ্টা থেকে এক ঘন্টা হাটলেই যথেষ্ট। তবে সুস্থ থাকার জন্য আস্তে আস্তে হাঁটাহাঁটি না করে জোরে হাঁটতে হবে। আবার এর  চেয়ে একটু দৌড়াদৌড়ি করা বেশি ভালো কারণ এতে শরীরের ভালো ব্যায়াম হয়।

পানি

পানি আমাদের শরীরের জন্য যতটা উপকারী ঠিক ততটাই প্রয়োজনীয়  । তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা খুবই জরুরী, এটা সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।

 আমাদের ত্বক ও চুল ভালো রাখার জন্যে প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে পানি পান করা উচিত। এছাড়া পরিমিত পানি পান করলে মাইগ্রেনের সমস্যা দূর হয় এবং অতিরিক্ত ওজন কমে যায়।

আমাদের প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি অবশ্যই পান করা উচিত। এছাড়াও পরিমিত পরিমাণে পানি পান করলে শারীরিক ভাবে অনেক সুস্থ থাকা যায়।

পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম

সারাদিন প্রচুর পরিশ্রম এবং বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে আমাদের শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। এর সমাপ্তি ঘটে রাতে ঘুমানোর মাধ্যমে। রাতে পরিমিত ভাবে ঘুমালে সারা দিনের ক্লান্তি দূর হয় এবং কাজ করার জন্য  শরীরে নতুন ভাবে শক্তি যোগান বারে। রাতে অবশ্যই  খুব তারাতারি ঘুমাতে হবে এবং সকালেও তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে হবে।

আমরা যদি রাতে দেরি করে ঘুমিয়ে সকালে দেরি করে উঠি তবে কোনো উপকার নেই।  এটাত শরীরের জন্যে খুবই ক্ষতিকর। একজন পুর্নবয়স্ক মানুষের সুস্থ থাকার জন্য কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমালেই যথেষ্ট।  তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই ঘুম একটু বেশি কম হতে পারে।

রূপচর্চা

হ্যাঁ সুস্থ থাকার জন্য রূপচর্চার ভুমিকা আছে। আমাদের শরীর এবং মুখের ত্বকের যত্ন নিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে একটা কথা মনে রাখবেন মুখের ত্বকে অতিরিক্ত পরিমাণে কেমিক্যাল জাতীয় প্রসাধনী ব্যবহার করবেন না।

এতে উল্টো ত্বকের অনেক রকম ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় কেমিকেল মুক্ত প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে রূপচর্চা করলে। এছাড়াও রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই মুখমন্ডল সাবান দিয়ে ভালো করে ধৌত করে ঘুমাবেন। কারণ আপনার ত্বকে কোন প্রকার ক্রিম বা অন্য কোন ময়লা থাকতে পারে। এটা সারারাত ধরে থাকলে ত্বকে বিভিন্ন রকম সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

সুস্থ থাকার জন্য মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব

শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকতে চাইলে আমাদের অবশ্যই মানসিক ভাবেও  সুস্থ থাকা অত্যন্ত জরুরী। মানসিক ভাবে সুস্থ থাকতে চাইলে সর্বদা চিন্তামুক্ত, হাসি খুশি এবং প্রফুল্ল্য মনের থাকার চেষ্টা করবেন। আর অতিরিক্ত রাগ  সবচেয়ে ক্ষতিকর একটি বিষয়। অনেকেই আছেন যারা নিজেদের রাগ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে না এবং অতিরিক্ত রাগের বশে অনেক অনেক ভুল করে থাকে।

আর সেই সব ভুলের জন্য ভবিষ্যতে অনেক রকমের খেসারত দিতে হয়। তাই সব সময় অবশ্যই নিজের রাগ নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা করবেন।

এছাড়া অতিরিক্ত রাগ স্বাস্থ্যের প্রতি খুব বাজে প্রভাব ফেলে।

তাই সর্বদা ক্ষমাশীল হন, কারো উপরে রাগ করে বেশী সময় থাকবেন না। কারণ আপনি কারো উপরে রাগ করে থাকলে আপনারই মানসিক অশান্তি ও অসুস্থতা বাড়বে।

সর্বদা ইতিবাচক চিন্তা করুন, ইতিবাচক চিন্তাভাবনা আপনাকে মানসিক ভাবে সুস্থ রাখবে। আর শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই মানসিক ভাবেও সুস্থ থাকতে হবে।

মন ভালো রাখার জন্য আপনি বাহিরে কোথাও ভ্রমন করতে পারেন। এবং বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের লোকজনের সাথে সময় কাটাতে পারেন এতে আপনার মন অনেকটাই ভালো থাকবে।

সুস্থ থাকতে নিজের পছন্দের কাজগুলো করুন

হ্যাঁ অবশ্যই যে কাজগুলো আপনাকে আনন্দ দেয় সে কাজগুলো আপনি করুন।  আপনার মন ভালো রাখতে এবং শারীরিক সুস্থতার জন্য অবশ্যই নিজের প্রিয় কাজগুলো করবেন।

অনেকেরই অনেক রকমের শখ রয়েছে যেমন অনেকে মুভি দেখে, গান শুনে,  কারো বই পড়তে ভালো লাগে। 

এছাড়াও কেউ কেউ বাগান করা, গিটার বাজানো পছন্দ করে। এজন্য আপনার যে কাজটি করতে ভালো লাগে অবশ্যই সেই কাজগুলো প্রতিদিন করবেন। ‌ এতে আপনার মনে অনেক শান্তি আসবে এবং এতে মন ভালো থাকার পাশাপাশি শরীরও ভালো থাকবে।

আর অবশ্যই সৃষ্টিকর্তাকে সবসময় স্মরণ করবেন। এবং তার বিধি নিষেধ গুলো ভালোভাবে মেনে চলবেন। এতে আপনার কল্যাণ হবে। 

সুস্থ থাকার জন্য শেষ কিছু কথা

সর্বদা নিজেকে ভালবাসবেন এবং নিজেকে সবসময় গুরুত্বপূর্ন মনে করবেন। কারণ আপনার মধ্যে এমন শক্তি আছে যে চাইলে পুরো বিশ্বকে বদলে দিতে পারে। সবার ভিতরেই আলাদা আলাদা কোনো না কোনো গুন রয়েছে অন্য কারো ভিতর নেই। 

নিজেকে ভালোবাসলেই কেবল আপনি নিজের প্রতি যথাযথ যত্নশীল হতে পারবেন।  আজকাল তো আমরা অন্যকে এত বেশী প্রধান্য দেই এবং অন্যকে নিয়ে এতো বেশী ভাবি যে নিজের কথা অনেক সময়েই ভুলে যাই। এটা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার অন্তরায়।

সবসময় নিজে ভালো থাকার পাশাপাশি আপনার আপনজনকেও ভালো রাখার চেষ্টা করুন।  এতে আপনি নিজেও সুখে থাকবেন এবং আপনার আপনজনকেও ভালো থাকবে।

আপনি কখনোই নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করার চেষ্টা করবেন না।  এতে আপনার মানসিক অশান্তি বা অসুস্থ্যতা বেড়ে যাবে। কারণ পৃথিবিতে আপনি আপনার জায়গায় অনন্য, এর সাথে কারো তুলনা চলে না।

সোশ্যাল মিডিয়া কম ব্যবহার করবেন, কারণ বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বেশিরভাগ মানুষের সময় নষ্ট করে এবং মানসিক অশান্তি বারায়।

অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করলে নানান রকম মানসিক ও সামাজিক জটিলতার  সৃষ্টি হয় এবং ডিপ্রেশন বেড়ে যায়।

শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকার জন্য আপনি মানসিক ভাবেও নিজেকে সুস্থ রাখবেন। কারণ মন ভাল না থাকলে  শরীরও ভালো থাকে না। 

ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন।

Related Articles

Back to top button