অফিস লাইফফ্যাশনলাইফস্টাইল

স্থান কাল অনুযায়ী সঠিক পোশাক নির্বাচন

সঠিক পোশাক নির্বাচন

আমরা যখন কারো সামনে উপস্থিত হয় তখন সবথেকে বেশি যে বিষয়টি চোখে পড়ে তা হলো ব্যক্তিটির পোশাক। প্রাচীন কাল থেকে মানুষ পোশকা পরিধান করে আসছে। এই পোশাক শুধু যে লজ্জা নিবারণ করে তাই নয়। পোশাক মানুষের ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে।

মূলত স্থান, কাল অনুযায়ী পোশাক সর্বদা নির্বাচন করতে হয়। পোশাকের জমিন, আকার আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে পড়তে হয়। পোশাক নির্বাচন করার পূর্বে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে যে পোশাকটি যেন পরিধানকারীর বয়স, গায়ের রং, চেহারা ও পেশার সাথে মানিয়ে যায়।

মূলত স্থান অনু্যায়ী পোশাক নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে টকটকে লাল রঙয়ের কোন জামা পড়ে যাওয়াটা যেমন বেমানান তেমনি বিয়ের অনুষ্ঠানে মেড়মেড়ে কোন জামা পড়ে যাওয়াটা বেমানান। সবুজ, সাদা, বাদামী, ধূসর এসব রঙয়ের পোশাক যেকোন অনুষ্ঠানের জন্যই মানায়।

পোশাক নির্বাচন করার আগে গায়ের রং, উচ্চতা ও ওজন খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পোশাক নির্বাচন করার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পোশাকের রং। পোশাকের রং ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করতে সাহায্য করে। পোশাকের রং সঠিক হলে ফ্যাশন সুন্দর ও সাবলীল হয়ে উঠে।

পোশাকের রঙ বাছাই করার সময় পোশাকটি যেন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ধরে রাখতে সাহায্য করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। রং নির্বাচনের কোন ধরাবাধা নিয়ম নেই। মূলত যে রঙে পোশাক পরিধানকারীকে সুন্দর ও সাবলীল দেখায় সে রঙয়ের পোশাক ই সেই ব্যক্তিকে পড়তে হবে। বির্মষ ও দুঃখী দেখাবে এমন কোন রঙয়ের পোশাক পড়া যাবে না।

মোটা ব্যক্তিদেরকে তুলনামূলক হালকা রঙয়ের পোশাক পড়তে হবে ও চিকন ব্যক্তিদেরকে গাঢ় রঙয়ের পোশাক পড়তে হবে। কারণ যারা মোটা ও বেটে তাদের বড় ও গাঢ় প্রিন্টের পোশাক না পড়াই ভালো। তাদের সোজা ও লম্বা চেকের পোশাক পড়া ভালো। তাহলে তাদের চিকন লাগবে। চিকনদের বড় প্রিন্টের পোশাক পড়া ভালো। তাহলে তাদেরকে মোটা দেখাবে।

যারা অফিসে চাকরি করে তাদেরকে পাচটি রঙয়ের পোশাক ব্যবহার করা যেতে পারে। কর্পোরেট পোশাকে ব্যবহৃত পাচটি রং যেমন- কালো, নেভি ব্লু, মেরুন, বাদামী, গাঢ় সবুজ। কর্পোরেট চাকুরিতে ক্যাজুয়াল পোশাক না পড়ে অফিশিয়াল পোশাক পড়া উচিত। বিভিন্ন হালকা রঙয়ের পোশাক পড়া উচিত।

আরো পড়ুনঃ গরমে পোশাক নির্বাচনে যেসব মাথায় রাখতে হবে

সঠিক রঙয়ের পোশাক কিভাবে নির্বাচন করতে হবে?

গায়ের রঙয়ের সাথে পোশাক মিলিয়ে পোশাক নির্বাচন করা একটি বড় ব্যাপার। গায়ের রঙয়ের সাথে মিলিয়ে পোশাকের রং ও মেকআপের রং মিলিয়ে করতে পারলেই আপনার সাজ সম্পূর্ণ হবে। তবে এই কাজটি সবাই করতে পারে না। তাই আজ কিছু টিপস থাকবে-

পোশাক নির্বাচন করার সময় সবচেয়ে প্রথমে মনে রাখতে হবে যে, আপনি যে পোশাকটি নির্বাচন করবেন সেই পোশাকটি যেন হয় আপনার গায়ের রঙয়ের সাথে মিল। প্রতিটি মানুষেরই গায়ের রং আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। তাই প্রত্যেকের পোশাকের রং ও হবে ভিন্ন।

যাদের গায়ের রং কালো তাদের গাঢ় রঙয়ের পোশাক এড়িয়ে চলা উচিত। আবার ফর্সাদের যেকোন রঙয়ের পোশাকেই বেশ ভালো মানিয়ে যায়। ফর্সাদের গাঢ় রঙয়ের পোশাকে বেশি ভালো লাগে।

আবার রাতের অনুষ্ঠানে গাঢ় রং বেশ ভালো মানায়। কিন্তু দিনের অনুষ্ঠানে হালকা রং প্রাধান্য পায়। পোশাকের রঙয়ের সাথে বর্তমান ফ্যাশানের দিকেও নজর রেখে পোশাক নির্বাচন করা উচিত। আপনি যেই পোশাকটি নির্বাচন করবেন সেটি পড়লে যেন কেউ আপনাকে নিয়ে সমালোচনা করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

প্রতিটি মানুষের আলাদা কোন প্রিয় রঙ থাকে। যে রঙয়ের পোশাকই আমরা পড়ি না কেন তা যেন আমাদের ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করে। যেকোন স্থান, কাল ভেদে আমাদের পোশাকের রঙয়ের যেন ভিন্নতা থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তাহলে সব রঙয়ের পোশাকই সব জায়গায় মানিয়ে নিতে পারবে।

স্থান কাল অনু্যায়ী সঠিক পোশাক নির্বাচন

প্রতিটি মানুষই পোশাক কেনার সময় একটি বিষয় মাথায় রাখে সেটি হলো পোশাকের রং। পোশাকের রং সঠিক হলে সহজেই নিজেকে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয়। প্রতিটি রংয়েরই একটি নিজস্ব সত্ত্বা আছে। এসব সত্ত্বা পোশাক পরিধানকারীর শারীরিক ও মানসিক প্রভাব বিস্তার করে। লাল রং যেমন শক্তি, ভালোবাসা, কর্মোদ্যোগ ও পরিবর্তনশীলতা প্রতীক, সাদা শান্তির প্রতীক, সবুজ রং ঐক্য, সমবেদনা ও প্রশান্তির প্রতীক, হলুদ রং নিরপেক্ষতা, নির্লিপ্ততা ও বুদ্ধির প্রতীক। এমনি প্রতিটি রঙয়ের একটি আলাদা ভাষা আছে।

পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবহাওয়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঋতু অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন করা উচিত। যেমন- শীতকালে লাল, মেরুন,হ্লুদ, উজ্জ্বল সবুজ ও যেকোন গাঢ় রঙয়ের পোশাক নির্বাচন করা উচিত।

আবার গরমকালে হালকা গোলাপী, হালকা নীল, হালকা সবুজ ও যেকোন ধরনের হালকা রঙয়ের পোশাক পড়া উচিত। বর্ষাকালে হালকা কাপড়ে গাঢ় রঙয়ের পোশাক নির্বাচন করা উচিত। বসন্তকালে লাল, গোলাপী, আকাশী, হলুদ ও হালকা সবুজ, তুতে রঙয়ের পোশাক নির্বাচন করা উচিত।

আবহাওয়া অনু্যায়ী পোশাক নির্বাচন করার ক্ষেত্রে গরমকালে কিছূটা ব্যতিক্রম ঘটে। মূলত গরমে অস্বস্তিকর আবহাওয়া থেকে স্বস্তি পেতে হালকা রঙয়ের পোশাক নির্বাচন করা উচিত। মূলত অনুষ্ঠান অনুযায়ী বিভিন্ন রঙয়ের পোশাক পরিধান করা হয়। আবার আরামের কথা মাথায় রেখে ফেব্রিক ও পরিবর্তন হয়।

পারিবারিক অনুষ্ঠানে

পারিবারিক অনুষ্ঠানে পোশাক তুলনামূলক জমকালো হয়ে থাকে। পোশাকের রং গাঢ় হয়ে থাকে। গরমের সময় রাতের অনুষ্ঠানে উজ্জ্বল রঙয়ের পোশাক পরা যায় কারণ রাতে কিছুটা শীতল থাকে। তাই উজ্জ্বল রঙয়ের পোশাক পড়লেও তেমন গরম লাগে না। আরামদায়ক পোশাক নির্বাচন করা উচিত সব অনুষ্ঠানে। কিছু কিছু রং যেমন- সিলভার, বটল গ্রিন, মেরুন, গাঢ় গোলাপি, মেজেন্টা, পেস্ট কালারের পোশাক পরা যেতে পারে।

অফিসের ক্ষেত্রে

অফিসে যেহেতু সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কর্মব্যস্ত থাকতে হয়ে তাই অফিসে আপনার পোশাকটি যেন হয় আরামদায়ক। আরামদায়ক পোশাক না পড়লে আপনি গরমে হাপিয়ে উঠবেন।

আপনার দেহ ও মন কোনটাই ভালো থাকবে না। তাই সবসময় আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে পোশাক নির্বাচন করা উচিত। যেমন- গরমে সাদা, আকাশি, হালকা গোলাপি, প্যাস্টেল, ঘিয়ে রংকে প্রাধান্য দেওয়া যেতে পারে। হালকা রঙয়ের পোশাক সারাদিনের ক্লান্তিতে কিছুটা স্বস্তি বোধ জাগাবে।

পুরুষদের ক্ষেত্রে জিনস প্যান্ট, হাফহাতা শার্ট ও স্যান্ডেল পড়া উচিত নয়। গাঢ় রং না পড়ে হালকা রং যেমন- সাদা, নীল, সবুজ, ধুসর, কালো ও বিভিন্ন হালকা রঙয়ের চেক শার্ট পড়তে হবে। কালো, নেভি ব্লু ও ধূসর রঙয়ের প্যান্ট পড়া উচিত। তাহলে অফিসের পোশাকটি মানানসই ও দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠবে।

বেড়াতে যাবার সময়

ভ্রমণ করার ক্ষেত্রে সবসময় হালকা ফেব্রিকের কোন পোশাক পরা উচিত। বেড়াতে যেয়ে যদি কয়েকদিন থাকার ব্যাপার থাকে তাহলে তো সেখানে যাওয়ার সময় ও গিয়ে আরামদায়ক ও হালকা রঙয়ের পোশাক পরিধান করা উচিত। তাহলে ভালোভাবে বেড়ানো যাবে। তাহলে আপনি বেড়াতে যেয়েও প্রাণবন্ত থাকবেন।

আড্ডা দেওয়ার সময়

বিকালে বা সন্ধ্যায় বন্ধু বা পরিবারের কারো সাথে আড্ডা দিলে আপনার সারাদিনের ক্লান্তি কাটিয়ে উঠা সম্ভব। এসময় আবহাওয়া ঠান্ডা থাকে। তাই যেকোন ধরনের পোশাক পড়লেই কোন সমস্যা হয় না। যেকোন পোশাক পড়েই আপনি নিজেকে প্রাণবন্ত ও স্বতস্ফূর্ত মনে করবেন। তবে সাদা, গোলাপী, প্যাস্টেল, ক্রিম, সিলভার, ফিরোজা, হলুদ ও হালকা সবুজ রঙয়ের পোশাক পড়া যেতে পারে।

ক্যাম্পাসের ক্ষেত্রে

কলেজ বা ভার্সিটিতে যেতে হলে শার্ট, প্যান্ট ও টি-শার্ট, সালোয়ার কামিজ পড়ে। সকাল থেকে দুপুর বা বিকাল বা রাত হয়ে যায় কলেজ করতে করতে। তাই তাদের পোশাক হওয়া উচিত আবহাওয়া অনুযায়ী। গরমের সময় হালকা রঙয়ের পোশাক পরা উচতি আবার শীতে তুলনামূলক মোটা জামা-কাপড় পড়া উচিত। ফ্যাশন অনুযায়ী পোশাক নির্ধারণ করা উচিত।

আরো পড়ুনঃ

ওয়েলি স্কিনের সারাবছরের যত্ন

বর্ষায় ত্বককে প্রাণবন্ত করার উপায়

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.