ইনডোর প্ল্যান্টপ্ল্যান্টিং

স্বল্প আলোতে বাচবে যেসব ইনডোর প্ল্যান্ট

স্বল্প আলোর ইনডোর প্ল্যান্ট

শহরের এই ইট কাঠের বাড়িতে সবুজের সমারোহ নেই বললেই চলে। তাই এখন অনেকেই চায় নিজের বাড়িতেই একটুখানি সবুজ থাকুক। নিজেরা যেন স্বল্প হলেও অক্সিজেন পেতে পারে।

এতে আমাদের বাড়িটাও যেমন হয়ে উঠবে সুন্দর তেমনি বাড়ি হয়ে উঠবে বসবাসের উপযোগী। আবার অনেকেরই বাড়িতে পর্যাপ্ত আলোর সুব্যবস্থা নেই। তাই তারা চিন্তা করে ইনডোর প্ল্যান্ট লাগানো যাবে কিনা। আবার লাগালে যদি মরে যায়।

ইনডোর প্ল্যান্ট

কিন্তু বাড়িতে পর্যাপ্ত আলো না থাকলেও সমস্যা নেই। কারণ ইনডোর প্ল্যান্টের এমন কিছু প্রজাতি আছে যেগুলো স্বল্প আলোতেই বেড়ে উঠবে। এসব গাছ ঘরের বাতাস রাখে দূষণ্মুক্ত।

১। অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরা এর বাংলা নাম ঘৃতকুমারী বা ঘৃতকাঞ্চন। ঘরের ভিতরের বাতাসকে পরিশুদ্ধ করে এই অ্যালোভেরা গাছ। এই গাছের মধ্যত্বক দিয়ে ত্বক ও চুলের যত্ন করা যায়। এই গাছ ঘরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। ধারণা মতে, ১ টি অ্যালোভেরা গাছ ৯ টি বায়োলজিক্যাল এয়ার পিউরিফায়ারের কাজ করে।

২।ক্যাকটাস

ক্যাকটাস

কাটাযুক্ত ক্যাকটাস গাছ খুব সহজেই ঘরের মাঝে রাখা যায়। মরুভূমিতে এসব ক্যাকটাস গাছের জন্ম। এগুলোর জন্য খুব বেশি আলোর প্রয়োজন হয় না। এদেরকে খুব কম পানি দিতে হবে। সপ্তাহে ২/৩ দিন রোদে রাখতে হয় এবং যখন গাছের গোরা শুকিয়ে যায় তখন পানি দিলেই হয়। নার্সারিতে বিভিন্ন ধরনের ক্যাকটাস গাছ কিনতে পাওয়া যায়। বারান্দাতে খুব সহজেই এই ক্যাকটাস গাছ লাগানো যায়। এই গাছের জন্য তেমন কোন পরিচর্যার প্রয়োজন পড়ে না।

৩।লেডি পাম

লেডি পাম

লেডি পাম দেখতে সবুজ রঙয়ের হয়ে থাকে। এটি পাম গাছেরই একটি প্রজাতি। অফিসে বা বাসায় উভয় জায়গাতেই এই লেডিপাম গাছ লাগানো যায়। এটি ছোট তাল গাছের মতো হয়ে থাকে। এই গাছ ঘরের ভিতরেই খুব ভালো ভাবে বাড়তে থাকে। এই গাছ মূলত খুব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। এই গাছের জন্য খুব কম আলো হলেই চলে।

৪। ড্রাগন ট্রি

ড্রাগন ট্রি

ড্রাগন টি যেকোন তাপমাত্রাতেই বেড়ে উঠে। এই গাছের যত্ন ও পরিচর্যা খুব সহজ। এই গাছে প্রতিদিন পানি দিলে এই গাছ খুব দ্রুত বেড়ে উঠে। এই গাছের জন্য আলোর প্রয়োজন থাকে। কিন্তু খুব বেশি তাপের প্রয়োজন নেই।

৫। চাইনিজ এভারগ্রিন

চাইনিজ এভারগ্রিন

চাইনিজ এভারগ্রিন খুব কম আলোতেই বাচতে পারে। যেখানে খুব কম আলো পৌছায় সেখানেও এই গাছ খুব সহজেই বেঁচে থাকতে পারে। ছায়াতেই এই গাছ ভালো থাকে। এই গাছকে এয়ার পিউরিফায়ার বলা হয়।

৬। ব্যাম্বু পাম

ব্যাম্বু পাম

ব্যাম্বু গাছ ৮- ১২ ফুট লম্বা হতে পারে। এই গাছ বাতাস পরিশুদ্ধ করে। ঝোপালো হয়ে থাকে এই গাছ। এই গাছ বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। কয়েক দিন পর পর এই গাছ কিছু সময়ের জন্য আলোতে দিতে হয়।

৭। ইন্ডিয়ান ব্যাসিল বা তুলসী গাছ

ইন্ডিয়ান ব্যাসিল বা তুলসী গাছ

তুলসী একটি ঔষধি গাছ। আয়ুর্বেদে তুলসী গাছ ভেষজ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এই গাছের ডাল, পাতা, বীজ সবই মানুষের জন্য খুবই উপকারী। সর্দি, কাশি, জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, জ্বর জ্বর ভাব সব এই পাতা দূর করতে সাহায্য করে। এই গাছ ঘরে খুব সহজেই লাগানো যায়। এর জন্য কোন যত্ন নিতে হয় না। এই গাছ বাতাসকে পরিশুদ্ধ করে।

এছাড়াও আরো অনেক গাছ আছে যেগুলো আমরা খুব সহজেই ঘরে লাগাতে পারি। এসব গাছ আমাদের ঘরের বাতাসকে পরিশুদ্ধ করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.