খাদ্য ও স্বাস্থ্যকথাস্বাস্থ্য টিপস

হেচকি উঠা বন্ধের উপায়

দ্রুত হেচকি উঠার সমাধান

আমাদের যেকোন কাজের ফাকে হঠাত করেই হেচকি উঠা শুরু হয়ে যায়। এই হেচকি উঠার সমস্যায় প্রায় সবাই সম্মুখীন হয়ে থাকে। এই হঠাত হেচকি উঠা কতোটা যন্ত্রণাদায়ক ও বিরক্তকর সেতা আমরা সবাই জানি। খাওয়ার সময়, ক্লাসের ফাকে, অফিসের যেকোন জরুরি মিটিং এর মাঝে হেচকি উঠতে শুরু হয়ে যায়। ফলে আমরা একটি বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যায়।

হেচকি উঠা নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েনি এমন মানুষ কম পাওয়া যায়। অনেক সময় দেখা যায় পানি পান করলে হেচকি উঠা বন্ধ হয়ে যায় আবার পরে হেচকি উঠতে শুরু করে। তখন আর থামতেই চায় না। অনেকের আবার হেচকি উঠা সমস্যা নিয়ে ছুটতে হয় ডাক্তারের কাছে। অনবরত হেচকি উঠতে থাকলে খাবার শ্বাসনালীতেও আটকে যেতে পারে। ফলে মারাত্নক বিপদ হতে পারে।

এই হেচকি উঠা সমস্যার কিছু ঘরোয়া সমাধান নিয়ে আজ আমরা হাজির হয়েছি। আপনারাও দেখে নিন-

১। হেচকি উঠা বন্ধ করতে লেবুর রসের সাথে আদা কুচি মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। তাহলে খুব দ্রুতই হেচকি বন্ধ হয়ে যাবে। আবার হেচকি বন্ধ করতে মুখে এক টুকরা লেবুও রাখা যেতে পারে।

২। এক গ্লাস ঠান্ডা পানিতে এক চামচ মধু মিশাতে হবে। এই মিশ্রণটি এক নিঃশ্বাসে পান করতে হবে। তাহলে হেচকি উঠা বধ হয়ে যাবে।

এছাড়া ও ঠান্ডা পানি দিয়ে কুলি করলেও হেচকি উঠা বন্ধ হয়ে যাবে। আবার এক টুকরা বরফ মুখের ভিতর রাখলেও হেচকি বন্ধ হয়ে যায়।

৩। হেচকি উঠা শুরু হলে খুব জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে দম বন্ধ করে রাখতে হবে ১০-১৫ সেকেন্ডের জন্য। এভাবে ৩-৪ বার করলে হেচকি উঠা বন্ধ হয়ে যায়। প্রথম বারে বন্ধ না হলে আবার ৫মিনিট পর করতে হবে। তাহলেই হেচকি উঠা বন্ধ হয়ে যাবে।

৪। হেচকি উঠা বন্ধ করতে ভিনেগার খুব ভালো কাজ করে। ভিনেগারের টক স্বাদ মনোযোগ সরিয়ে হেচকি উঠা বন্ধ করে দিতে পারে। সাদা ভিনেগার বা অ্যাপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করা যেতে পারে। আধা চামচ ভিনেগার এক গ্লাস পানিতে মিশাতে হবে। তারপর ধীরে ধীরে পান করতে হবে। এছাড়াও এক গ্লাস পানিতে অল্প ভিনেগার মিশিয়ে পান করলেই হেচকি বন্ধ হয়ে যায়।

৫। হেচকি উঠা বন্ধ করতে এক গ্লাস পানি খেতে হবে বা পানি নিয়ে গার্গল করতে হবে। তাহলে হেচকি উঠা বন্ধ হয়ে যাবে।

হেচকি ঊঠলে পানি খেতে হবে।

৬। হেচকি উঠা বন্ধ করতে এলাচ একটা ভালো উপায়। এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ এলাচের গুড়ো মিশিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিতে হবে। তারপর সেটা পান করতে হবে খুব ধীরে ধীরে। তাহলে হেচকি উঠা বন্ধ হয়ে যাবে।

৭। হেচকি উঠা বন্ধ করতে লম্বা নিঃশ্বাস নিতে হবে। তারপর হাটুকে বুকের কাছাকাছি জড়িয়ে ধরতে হবে। কয়েক মিনিট এভাবে রাখলে হেচকি উঠা বন্ধ হয়ে যাবে।

৮। হেচকি উঠা শুরু হতেই এক চামচ মাখন বা চিনি খাওয়া যেতে পারে। একটি কাগজের ব্যাগে মুখ রেখে নিঃশ্বাস নিলে হেচকি উঠা বন্ধ হয়ে যায়। এতে রক্তে কার্বন-ডাই অক্সাইড বেড়ে যায়। ফলে হেচকি থেমে যায়।

৯। বারবার হেচকি উঠতে থাকলে জিভ বের করে আঙ্গুল দিয়ে কিছু সময় ধরে রাখতে হবে। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটাখুব বেশি কার্যকরী। কানে আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরলেও হেচকি বন্ধ হয়ে যায়। তবে খুব বেশি জোরে ধরা যাবেনা।

১০। হেচকি উঠলে পিনাট বাটার খেলে খুব দ্রুতই থেমে যায়। এছাড়া অ্যান্টাসিড ট্যাবলেট ও খাওয়া যেতে পারে। কারণ এতে প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম থাকে যা আমাদের নার্ভগুলোকে শান্ত করে। ফলে হেচকি উঠা বন্ধ হয়ে যায়।

১১। মুখের উপরের অংশটি ভালো করে মালিশ করতে হবে। প্রয়োজনে গলার পেছনের অংশ হালকা মালিশ করতে হবে। তাহলে হেচকি উঠাবন্ধ হয়ে যাবে।

১২। নিজেকে ভয় পাইয়ে দিলে হেচকি উঠা বন্ধ হয়ে যায়। কারণ ভয় পেলে নার্ভগুলো চমকে উঠে। ফলে হেচকি ও থেমে যায়।

আরো পড়ুনঃ

পিঠের ব্যথা কমাতে করণীয়

নানা রোগে উপকারী হলুদ ও তুলসী পাতার জুস

অল্প বয়সে কেন হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে?

রান্নায় তেল বেশি হয়ে গেলে কি করবেন?

ডায়াবেটিস রোগীরা কোন ফল খেতে পারবে ও কোন ফল খেতে পারবে না?

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.