ফ্যাশনলাইফস্টাইল

গরমে পোশাক নির্বাচনে যেসব মাথায় রাখতে হবে

গরমে পোশাক নির্বাচন

গরমে আমরা কোথাও যেতে হলে যে পোশাকটি পড়বো সেটি নির্বাচন করতে হলে আগেই আমাদের মাথায় আসে পোশাকটি কতোটা আরামদায়ক হবে। গরমে স্টাইলের সাথে সাথে প্রথমেই বিবেচনায় আসে কোন পোশাকটি আমাদেরকে আরাম দিবে। তাই গরমে আমরা বাসা থেকে বের হতে গেলেই আরামদায়ক পোশাক খুজে থাকি। আবার স্টাইলের কথাও মাথায় রাখতে হয়। তাই আমরা এমন পোশাক বেছে নিয়ে থাকি যেটা স্টাইল এবং আরাম দুই ই দিবে। তাই আমাদের এমন পোশাক বাছাই করার জন্য কিছু আনুষঙ্গিক বিষয় মাথায় রাখতে হয়। এসব বিষয়ের মধ্যে প্রথমেই আমাদের মাথায় আসবে পোষাকের কাপড় ও কাপড়ের রং। এই দুইটি বিষয় ই আমাদের পোষাকের আরাম ও স্বাছন্দ্য নির্বাচন করে। এই গরমে আপনারাও পোষাক নির্বাচনের সময় নিম্নোক্ত বিষয়গুলি মাথায় রেখে আরামদায়ক পোষাক পেতে পারেন।

পোশাকের উপাদানঃ

প্রথমে পোশাক কিনতে গেলে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে পোশাকের উপাদানের দিকে অর্থাৎ কোন জিনিস দিয়ে পোশাকটা বানানো হয়েছে। ভালো মানের উপাদান দিয়ে বানানো পোশাক আমরা সবসময় নির্বাচন করবো। আর গরমে পোশাক কিনতে হলে একটু হালকা পাতলা ধরনের পোশাক কিনতে হয় যাতে আরাম পাওয়া যায়।

১. সুতি

সুতি কাপড় যেহেতু সুতা দিয়ে তৈরী করা হয় তাই সুতি কাপড়ের জামা বা শাড়ি পরলে গরমে খুব আরাম পাওয়া যায়। সুতি কাপড় খুবই হালকা পাতলা হয় তাই এই কাপড়ের মাঝ দিয়ে খুব বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। তাই সুতি কাপড় গায়ে দিলে গরম কম লাগে। তাই গরমে সুতি কাপড়ের জামা, শাড়ি পড়তে ভালো লাগে। শুধু যে মেয়েরাই সুতি কাপড়ের জামা\শাড়ি পড়বে তা নয় সাথে সাথে পুরুষেরাও সুতি জামা সাথে সুতি প্যান্ট পড়তে পারে। যেহেতু গরমে জিন্স পড়লে খুব অস্বস্তি হয় তাই সুতি কাপড় বেছে নেওয়াটাই শ্রেয়।

২. খাদি কাপড়

খাদি কাপড় আমাদের উপমহাদেশের নিজস্ব ঐতিহ্য। এটি আসলে সুতির মতোই আরামদায়ক। সুতি কাপড়ের মতোই এই খাদি কাপড় দিয়ে যেকোন ফ্যাশানবেল জামা বানানো যায় এবং এসব জামা ঘরে পরা থেকে শুরু করে যেকোন বড় অনুষ্ঠানেই পরা যায়। তাই সারাজীবন ই এই খাদি কাপড়ের চল বয়ে আসছে। এই কাপড়ের জামা যেকোনভাবেই ক্যারি করা যায়। এই খাদি কাপড়ের ভিতর দিয়ে খুব সহজেই বাতাস চলাচল করতে পারে তাই এটি ঘাম গায়ে বসতে দেয় না। তাই খাদি গরমে খুব আরামদায়ক।

৩. লন

লন কাপড় মূলত লাইলন ও সুতির মিশ্রণে তৈরী করা হয়। যেহেতু সুতি আছে সাথে তাই লন কাপড় গরমের জন্য খুব আরামদায়ক। লন কাপড়ের জামা সুতির মতোই তাপ শোষণ করে কম তাই গরমে খুব আরামদায়ক হয়।

৪. ফ্রেস্কো

এই ফ্রেস্কো কাপড় খুব পাতলা ধরনের হয়। অনেকটা নেটের মতো। এই কাপড়ের পোশাক বানালে খুব ট্রেন্ডি লাগে তাই গরমে যেকোন অনুষ্ঠানে এই কাপড়ের পোশাক খুবই মানানসই হয়। গরমে আরাম এবং স্টাইল দুই- ই করতে চাইলে এই কাপড়ের কোন তুলনা নেই।

৫. সারসাকা্র

এই কাপড় খুব সুদিং লুক দেয় এবং এইটা ভেতর থেকে আমাদের শরীরকে খুব আরাম দেয় এবং ঠান্ড রাখে। তাই গরমকালে নিসন্দেহে এই কাপড়ের পোশাক পরা যেতেই পারে।

৬. রেয়ন

রেয়ন অন্যরকম একটা ফ্রেবিক। এটি সাধারণত মানুষের নিজেদের তৈরী করা একটি ফ্রেবিক তাই মানুষেরা তাদের সুবিধা, স্বাছন্দ্যমতো ফ্রেবিক তৈরী করেছে। ভিজে কাঠের পাল্প, সেলুলোজ, কটনের মতো আরও কিছু প্রাকৃতিক সিন্থেটিক একসঙ্গে মিশিয়ে এই রেয়ন কাপড় বানানো হয়। যেহেতু এটা মানুষের তৈরী তাই গরমের কথা চিন্তা করে খুব আরামদায়ক ভাবেই তৈরী করা হয়েছে। এই রেয়ন কাপড়ের একটা ম্যাট ফিনিশ আছে যেটা গরমের জন্য একদমই মানানসই।

৭. লাইলন

এই লাইলন কাপড় গরমের জন্য খুব আরামদায়ক। গরমে এটি একটি সুদিং লুক দেয়। সাথে এর রং ও ম্যাট ফিনিশ। তাই এটি গরমে ব্যবহারের জন্য একদম পারফেক্ট।

পোশাকের রংঃ

পোশাকের উপাদানের সাথে পোশাকের রং ও গরম ঠান্ডা বাছাই করতে সাহায্য করে। আপনি এই গরমে হালকা রঙয়ের পোশাক বাছাই করবেন। হালকা রং সূর্যের তাপ খুব কম শোষে এবং প্রায় সব তাপ ই প্রতিফলন করে। তাই গরমে হালকা রঙয়ের পোশাক পরিধান করতে হয়। আপনি যদি হালকা কাপড়ের পোশাক পড়লেন কিন্তু গাঢ় রঙয়ের হয় তাহলে কিন্তু গরম ঠিকই লাগবে। তাই গরমে পড়ুন হালকা রঙয়ের পোশাক। আপনাকে এলিগেন্ট লাগবে।

গরমে কোন রঙয়ের পোশাক পরবোঃ

গরমে হালকা যেকোন রঙয়ের পোশাক পড়া যেতে পারে। যেমন- সাদা, হালকা নীল, হালকা সবুজ, হালকা বেগুনী, আকাশী, গোলাপী ইত্যাদি হালকা রং। তবে গরমে সাদা রংয়ের পোশাক পড়া বেশি ভালো। যেহেতু হালকা রং কম তাপ শোষণ করে এবং বেশি তাপ প্রতিফলন করে তাই হালকা রং পড়লে গরমের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

গরমে এসব রং পড়া থেকে বিরত থাকুন

গরমে সর্বদা হালকা রং বেছে নিতে হয়। এর মাঝে গরমে সাদা রংয়ের পোশাক পড়া ভালো। তাছাড়া সাদা ছাড়াও যেকোন হালকা রং-ই গরমে পড়া যায় কিন্তু সাদার বিপরীতে কালো রং মোটেও গরমে পড়বেন না। কালো রং খুব ট্রেন্ডি কিন্তু যেহেতু কালো রঙ্গয়ের তাপ ধারণ ক্ষমতা বেশী তাই এই রঙয়ের জামা শরীরে তাপ শুষে আরো বেশী অস্বস্তি দেয়। এছাড়া গরমে অন্য যেকোন গাঢ় রং যেমন-নীল,মেজেন্টা,সবুজ এসব রং পড়া যাবে না।

তবে কিছু কিছু কাপড়ের উপর কালো রং রয়েছে যেগুলো কালো হলেও কিছুটা পাতলা কাপড় যেমন-খাদি। এগুলো গরমে চাইলে পড়া যেতেই পারে।

এভাবে পোশাক নির্বাচন করলে হাজার গরম পড়লেও আমরা গরম থেকে বাচতে পারবো খানিকটা। তাই আমাদেরকে এসব বিষয় মাথায় রেখে পোশাক নির্বাচন করতে হবে যাতে আরামের সাথে স্টাইল ও করা যায়।

আরো পড়ুনঃ

দেখে নিন গরমে কি কি ফল খাবেন

ট্যান পড়া থেকে মুক্তির প্রাকৃতিক সমাধান

গরমকালে ড্রাই স্কিনের মেকআপ করার পদ্ধতি

ভাতের মাড় দিয়ে রূপচর্চা

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.