অন্যান্যরোগতত্ত্ব

থাইরয়েড সচেতনতা

থাইরয়েড সচেতনতা

প্রতিবছর জানুয়ারি মাস পালন করা হয় থাইরয়েড সচেতনার মাস হিসাবে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, থাইরয়েড যেমন বাড়ছে সবার মাঝে তেমনি এই রোগ নিয়ে নানা ধরনের ভুল ধারণা সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে। এই জন্য প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে পালন করা হয় থাইরয়েড সচেতনার মাস।

থাইরয়েড গ্রন্থি মানুষের শরীরের একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা বৃদ্ধি, বিপাক ও বিকাশ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। এটি মানুষের ঘাড়ের সামনে অবস্থিত থাকে। এই গ্রন্থি প্রজাপতির মতো আকারের হয়ে থাকে। এটি দুই ধরনের হরমোন তৈরী করে। থাইরক্সিন ও ট্রাইয়োডোথাইরোনিন।

থাইরয়েড রোগটি নিয়ে মানুষের মাঝে নানা ধরনের ভুল ধারণা রয়েছে। আজ আমরা এসব ভুল ধারণাগুলো নিয়ে কথা বলবো। এসব ধারণা থেকে আমাদের সবসময় দূরে থাকা উচিত। থাইরয়েড হলে এর লক্ষণ সুস্পষ্ট থাকে, তাই থাইরয়েড নির্ণয় করা খুব সহজ।

তবে থাইরয়েড রোগের লক্ষণ গুলো খুবই সুক্ষ্ণ। তাই যে কেউ এই লক্ষণগুলো উপেক্ষা করতে পারে। থাইরয়েডের প্রধান লক্ষণ গুলো হচ্ছে ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, অনিয়মিত ঋতুস্রাব, ডায়রিয়া ইত্যাদি।

সূক্ষ্মতা ও ওভারল্যাপের কারণে এই রোগ নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই অন্য একটি বিকল্প পদ্ধতিতে এই রোগ পরীক্ষা করা যায় তা হলো হরমোনের মাত্রা নিরীক্ষণের জন্য একটি থাইরয়েড প্যানেল পরীক্ষা করা। এটি একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা যেখানে লক্ষণ দেখা দেওয়ার পূর্বেই থাইরয়েড সনাক্ত করা যায়।

চলুন আমরা কিছু ভুল ধারণা নিয়ে কথা বলি যেগুলো থাইরয়েড রোগীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়-

১। থাইরয়েড রোগীদের বাধাকপি, ফুলকপি খেতে নেই-

মূলত ব্রকল, বাধাকপি, ফুলকপি এগুলো থাইরয়েডের আয়োডিনের ব্যবহারে হস্তক্ষেপ করে। থাইরয়েড গ্রন্থিতে হরমোন উতপাদনের জন্য আয়োডিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। সবজি মূলত পুষ্টির ভারসাম্যের অংশ। তাই থাইরয়েড থাকলেও ফুলকপি, বাধাকপি, ব্রকলি খাওয়া যেতে পারে।

২। হাইপোথাইরয়েডিজম শুধুমাত্র নারীদের উপর প্রভাব ফেলে-

এই কথাটা কিছুটা সত্য যে, থাইরয়েড নারীদের পুরুষদের তুলনায় কিছুটা বেশি হয়ে থাকে। তবে পুরুষ কিংবা মহিলা উভয়েরই প্রতি পাঁচ বছর পর পর থাইরয়েড ফাংশন পরীক্ষা করা উচিত। আর যদি হাইপোথাইরয়েডিজম থাকে তাহলে হরমোনের মাত্রা স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত প্রথম বছরে প্রতি দুই থেকে তিন মাস অন্তর হরমোন পরীক্ষা করাতে হবে।

৩। স্বাস্থ্য অবস্থার উন্নতি হলে থাইরয়েডের ওষুধ খাওয়া বন্ধ করা যেতে পারে-

কথাটি সম্পূর্ণ ভুল। থাইরয়েডের লক্ষণগুলো ভালো হয়ে গেছে মানে ওষুধগুলো সাহায্য করেছে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত থাইরয়েডের ওষুধ বন্ধ করতে নেই। ওষুধ বন্ধ করলে উপসর্গ আবার ফেরত আসতে পারে। খাবারের এক ঘণ্টা পূর্বে খালি পেটে থাইরয়েডের ওষুধ খেলে ভালো কাজ করে। কোন কোন রোগীর ক্ষেত্রে সারাজীবন ওষুধ খেয়ে যেতে হয়।

৪। হাইপোথাইরয়েডিজম একটি অন্তনির্হিত অটোইমিউন অবস্থার কারণে ঘটে-

হাইপোথাইরয়েডিজমের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো থাইরয়েডাইটিস নামক একটি অটোইমিউন রোগ। তবে এটি একমাত্র কারণ নয়। অন্যান্য বিভিন্ন কারণ রয়েছে। যেমন- জেনেটিক্স, পিটুইটারি গ্রন্থির সমস্যা ও কিছু ওষুধ থাইরয়েডের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণ খুজে বের করা খুবই সহজ। এই থাইরয়েডিজমের অ্যান্টিবডি ল্যাবে পরীক্ষা করে সনাক্ত করা যেতে পারে। যাকে থাইরয়েড অ্যান্টিবডি টেস্ট বলা হয়।

আরো পড়ূনঃ

পিঠের ব্যথা কমাতে করণীয়

অল্প বয়সে কেন হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে?

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!

Adblock Detected

Please turn off your Adblocker.